মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বড়লেখা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ। তারা ওই কৃষকের এক বিঘা জমির বোরোধান কেটে দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের ভোলারকান্দি গ্রামের দিবাংশু দাস নামে এক কৃষকের এক বিঘা জমির ধান কেটে দেন তারা। বর্ষার আগে পাকা ধান ঘরে তুলতে পেরে খুশি ওই কৃষক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের ভোলারকান্দি গ্রামের কৃষক দিবাংশু দাসের জমির বোরো ধান কেটে দিচ্ছে ছাত্রলীগ। ধান কাটার কাজে অংশ নেন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ছিদ্রাতুল কাদের আবির, উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাপলু দাস, বড়লেখা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ফরহাদসহ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।

ভোলারকান্দি গ্রামের কৃষক দিবাংশু দাস বলেন, আমার এলাকার এক ছাত্রলীগ নেতা হঠাৎ আমাকে বললেন তারা কয়েকজন মিলে আমার জমির ধান কেটে দেবেন। এখন বর্ষকাল। যেকোনো সময় ভারী বৃষ্টি হলে ধান তলিয়ে যেতে পারে। তাই আমি তাদের আর না করিনি। আজ ছাত্রলীগের কয়েকজন এসে আমার প্রায় একবিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছেন। বর্ষার আগে ধান কেটে দিয়ে তারা আমার বেশ উপকার করেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ।

বড়লেখা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি কামরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ফরহাদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন যে কৃষকের ধান কেটে দিতে। তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি যেসব কৃষক বোরো ধান কাটাতে পারছেন না বা শ্রমিক সংকটে ভুগছেন তাদের ধান দ্রুত কেটে দেবো। এজন্য আমরা ভোলারকান্দি গ্রামের কৃষক দিবাংশুর এক বিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছি। আর কোনো কৃষক যদি শ্রমিক না পান, তাহলে আমরা তারও ধান কেটে দেবো ।

উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ছিদ্রাতুল কাদের আবির বলেন, আমাদের এখানে হাওর এলাকায় বেশি বোরোধান আবাদ হয়। এমনিতে করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকরা শ্রমিক সংকটে ভুগছেন। আর এখন বর্ষাকাল। যেকোনো সময় ভারী বর্ষণ হতে পারে। আর আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও নির্দেশ দিয়েছেন যে কৃষকদের ধান কেটে দিতে। মূলত এসব কথা চিন্তা বড়লেখা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ এই উদ্যোগ নিয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগও তাদের সাথে ধান কাটায় সহায়তা করবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার বুধবার বিকেলে বলেন,  ছাত্রলীগ কৃষকদের ধান কেটে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। ছাত্রলীগের পাশাপাশি এখন সবার উচিত এভাবে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কৃষকরা বিভিন্ন জায়গায় ধান কাটা চলছে। এখানে ধান কাটার অনেক শ্রমিক আছেন। তারা ধান কেটে দিচ্ছেন। আমরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কৃষকদের ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি। তাদের উৎসাহ দিচ্ছি। কারণ এপ্রিলের শেষের দিকে শিলাবৃষ্টিসহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আর বোরোধান আশি পারসেন্ট পাকা হলেই কেটে ফেলা যায়। তিনি আরও বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বড়লেখায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার ৪ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে। ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার মেট্টিক টন।